VPN এবং প্রক্সি কি? 

VPN এবং প্রক্সি শব্দ দুইটার সাথে আমরা সবাই কম-বেশি পরিচিত। তবে শুধু নামের সাথেই পরিচিত, কিন্তু এটা যে কি জিনিস তা অধিকাংশ মানুষই জানে না।

আজকে আমরা VPN এবং প্রক্সি কি, এর কাজ এবং পার্থক্য- এসমস্ত বিষয় সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করবো।

প্রথমেই কথা বলব VPN নিয়ে।
VPN এর পূর্ণ রূপ হল- Virtual Private Network. সোজা বাংলায় এর সংজ্ঞা দাড়ায়, VPN হল একটা কাল্পনিক ‘Tunnel’ যার মাধ্যমে নিরাপদে তথ্য আদান প্রদান করা যায়। এই ‘Tunnel’ বা সুড়ঙ্গের বাস্তবে কোন অস্তিত্ব নেই, এটি দিয়ে মূলত কাল্পনিক একটা প্রাইভেট
নেটওয়ার্ক বোঝানো হচ্ছে যেটি দিয়ে
ইন্টারনেটে নিরাপদে তথ্য আদান প্রদান করা যায়। আমরা এখন ‘নিরাপদ’ keyword টির উপর ফোকাস করবো। ইন্টারনেট মূলত উন্মুক্ত তথ্য আদান প্রদানের জায়গা।

যেহেতু এটি পাবলিক নেটওয়ার্ক অর্থাৎ, পৃথিবীর সবাই সংযুক্ত তাই এখানে সরাসরি তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে তথ্যের গোপনীয়তা ফাঁস হয়ে যাবার একটা ঝুঁকি আছে। এই ঝুঁকি এড়ানোর জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করে নিজের ব্যক্তিগত বা প্রাইভেট নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হওয়ার নিরাপদ পদ্ধতিই হল VPN।

VPN-এর সুবিধাগুলো কি কি?
১। VPN ব্যবহার করার অর্থ হল আপনি ডাটা নিরাপদে আদান প্রদান করতে পারছেন।

২। VPN ব্যবহার করলে আপনার অবস্থান কেউ ট্র্যাক করতে পারবে না।

৩। IP address (Internet Protocol address) হাইড করে রাখে। অর্থাৎ, হ্যাকারদের কবলে পড়ার সম্ভাবনা নাই।

৪। আপনার ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী আইপিএস থেকে নেটের ফুল স্পিড পাবেন।

৫। VPN দিয়ে আপনি আইএসপি তে ব্লক করা সাইট ভিজিট করতে পারবেন। যেমন ধরেন, যদি ইউটিউব আমাদের দেশে বন্ধ করে দেয়া হয়, তাহলেও আপনি VPN ব্যবহার করে ইউটিউবে ঢুকতে পারবেন।

৬। এটি নিরাপদ যোগাযোগ এবং ডাটা encrypt করার একটি পদ্ধতি হিসেবে কাজে লাগে। মানে VPN আপনার মেশিনকে একটি ভার্চুয়াল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারে এবং আপনার পাঠানো সব data দ্রুততার সঙ্গে encrypt করে ফেলে অর্থাৎ public domain থেকে লুকিয়ে রাখে এবং এটা আপনার browsing history-র কোনো ট্র্যাক রাখে না। কাজেই আপনি অনলাইনে পুরোপুরি নিরাপদ।

তবে এত সুবিধার পরেও VPN-এর কিছু অসুবিধা রয়েছে।
এর প্রধান অসুবিধা হচ্ছে এটি আপনাকে টরেন্ট ফাইল ডাউনলোডের সুবিধা দেবে না এবং এটি সম্পূর্ণ ইন্টারনেট নির্ভর। VPN সার্ভিস ফ্রি কিংবা প্রিমিয়াম হতে পারে। যদিও
অধিকাংশ VPN সার্ভিসের ক্ষেত্রেই টাকা গুণতে হয়। তবে কিছু জনপ্রিয় ফ্রি VPN সার্ভিস রয়েছে, যা দিয়ে আপনি প্রিমিয়ামের কাছাকাছি সুবিধা পাবেন। যেমন- ProXPN, Hotspot Shield,
Cybershost, SecurityKiss, SpotFlux ইত্যাদি।

এবারে আসি প্রক্সি তে

স্কুল বা কলেজে অনেক সময় দেখা যায়, কেউ একজন ক্লাসে উপস্থিত না থাকলে, রোল কল এর সময় তার বন্ধু বান্ধবদের কেউ একজন তার রোলের সময় প্রেজেন্ট দেয়, মানে সে উপস্থিত না থেকেও উপস্থিত! এটাকে ক্লাস প্রক্সি বলা হয়। ইন্টারনেট প্রক্সিটার ধারনাটাও অনেকটা এরকম। আপনি যখন একটা লিঙ্ক বা ওয়েবসাইট ভিজিট করছেন,তখন আপনার আইপি, সার্ভার এর অ্যাক্সেস লগে লিপিবদ্ধ হয়। এখন আপনি যদি এই ব্রাউজার থেকে সার্ভার কানেকশন এর মাঝে একটা নতুন মাধ্যম ঢুকিয়ে দেন, তাহলে সার্ভারের লগে আপনার আইপির বদলে থাকবে সেই নতুন মাধ্যমের আইপি। আর এই মাধ্যমটাই হলো প্রক্সি! প্রক্সির কাজের ধারা অনুযায়ী প্রক্সি নানা ধরনের হয়।
ফরোয়ার্ড, ডায়নামিক, ওপেন, রিসার্ভ। ব্যবহারের ভিত্তিতে প্রক্সি সাধারণত চার ধরনের হয়। অন্তত এই চার ধরন মানুষ বেশি ব্যবহার করে।

  • স্ক্রিপ্ট প্রক্সি বা ওয়েব প্রক্সি
  • আইপি প্রক্সি
  • টানেল প্রক্সি বা ভিপিএন নামে অনেকেই চেনেন এটাকে
  • অনিয়ন নেটওয়ার্ক – এটা আইপি প্রক্সির একটা নতুন ধারা

ভিপিএন এবং প্রক্সির পার্থক্য

ভিপিএন এবং প্রক্সি কিভাবে কাজ করে এবং কি ধরনের সিকিউরিটি নিশ্চিত করে, তার মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য আছে।
প্রথমত, ভিপিএন আপনার কানেকশনটিকে এনক্রিপ্ট করে একেবারে আপনার ডিভাইসের সিস্টেম লেভেল থেকে যার ফলে আপনার পিসির সব অ্যাপস এবং সব সার্ভিস এবং সবধরনের ইনকামিং এবং আউটগোয়িং কানেকশনগুলো ভিপিএন সার্ভারের সাহায্যে এনক্রিপ্ট হয়ে যায়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রক্সি আপনার ডিভাইসের সিস্টেম লেভেল থেকে কানেকশনকে এনক্রিপ্ট করেনা। প্রক্সি অ্যাক্টিভেট করার জন্য আপনাকে ইন্ডিভিজুয়্যাল অ্যাপস বা সফটওয়্যারের সেটিংস থেকে প্রক্সি সার্ভার চেঞ্জ করতে হয় এবং তার ফলে শুধুমাত্র ওই অ্যাপসটি বা ওই সার্ভিসটিই প্রক্সি ব্যবহার করে।

HTTP প্রক্সি সার্ভারগুলোতে কোনরকম এনক্রিপশন থাকেনা!

প্রক্সি সার্ভারগুলোর মধ্যে সবথেকে কমন হচ্ছে HTTP প্রক্সি যেগুলো আপনি ওয়েব ব্রাউজারের সেটিংস থেকে অ্যাক্সেস করতে পারবেন অথবা কোন ফ্রি প্রক্সি ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার কাঙ্খিত ওয়েবসাইট অ্যাড্রেসটি টাইপ করে ওয়েবসাইটটি ভিজিট করে HTTP প্রক্সি ব্যবহার করে সেখানে আপনার আইপি অ্যাড্রেস হাইড করতে পারবেন। তবে নাম শুনেই বুঝতে পারছেন যে HTTP মানে হচ্ছে নন-সিকিওরড কানেকশন এবং HTTPS মানে হচ্ছে সিকিওরড কানেকশন। তাই আপনি HTTP প্রক্সি ব্যবহার করছেন, এর মানে হচ্ছে আপনার কানেকশনটিতে কোনরকম এনক্রিপশন নেই। অর্থাৎ প্রক্সি সার্ভারটি শুধুমাত্র আপনার আইপিটিকেই হাইড করছে, আপনার কানেকশনটিকে এনক্রিপ্ট করছে না! যা একেবারেই হাস্যকর। কারন, আপনার কানেকশনটি যদি এনক্রিপ্টই না হলো, তাহলে কেনই বা আপনি এতো ঝামেলা করে একটি প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করতে চাইবেন? এর ঝামেলাটা কোথায় তা একটু পরে বলছি।

আর ভিপিএন এর কথা বলতে হলে, আপনি চাইলে আপনার নিজের কোন সার্ভার ব্যবহার করে নিজের মতো করে কনফিগার করে একটি নন-এনক্রিপ্টেড ভিপিএন সার্ভার তৈরি করতে পারবেন, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আপনি যে ভিপিএন সার্ভিসই ব্যবহার করুন না কেন, সেটি আপনার কানেকশনকে এনক্রিপটেড করবেই।

ফ্রি প্রক্সি থেকে সবসময় দূরে থাকার চেষ্টা করবেন!

আর প্রক্সির কথা বললে, HTTP প্রক্সি ছাড়াও এমনও অনেক প্রক্সি আছে যেগুলো HTTPS কানেকশন সাপোর্ট করে। তবে আপনি ইন্টারনেটে যত ধরনের ফ্রি প্রক্সি ওয়েবসাইট পাবেন এবং ব্যবহার করবেন, তার সবগুলোই প্রায় HTTP কানেকশন ব্যবহার করে। অর্থাৎ, এটি শুধুমাত্র আপনার আইপিই হাইড করবে। তবে আপনার কানেকশনটি আন-এনক্রিপ্টেড হওয়ায়, আপনি ইন্টারনেটে কোথায় কি করছেন সবকিছুই আপনার প্রক্সি প্রোভাইডার এবং ওয়েব সার্ভারের কাছে ভিজিবল হবে। এর ফলে প্রক্সি সার্ভারটি আপনাকে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে পারবে। যেমন- আপনার কানেকশনটি এনক্রিপ্টেড না হওয়ায়, এরা নিজের ইচ্ছামত অ্যাডসও ইঞ্জেক্ট করে দিতে পারবে। কারন- আপনার কানেকশনটি এনক্রিপ্টেড নয় এবং তারা আপনার কানেকশনটি মোডিফাইও করতে পারছে, যেহেতু আপনি তাদের প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করছেন। এবার নিশ্চই বুঝতে পারছেন যে কেন এবং কিভাবে এসব ফ্রি প্রক্সি ওয়েবসাইটগুলো ফ্রি সার্ভিস অফার করতে পারে। তাই ফ্রি প্রক্সি থেকে সবসময় দূরে থাকার চেষ্টা করাই শ্রেয়।

প্রক্সি এবং ভিপিএন সম্পর্কিত নানা তথ্য সংগ্রহ করে আপনাদের সামনে তুলে ধরার ট্রাই করেছি । ভুল হয়ে থাকলে অবশ্যই কমেন্টে সংশোধনী দিবেন। নেক্সট এ কি নিয়ে কন্টেন্ট চান সেটি জানাবেন এবং আমাদের সোশ্যাল সাইট গুলোতে যুক্ত থাকবেন এই কামনা করে শেষ করছি আজকের আয়োজন। ভালো থাকবেন।