সাধারন ডায়েরী বা সংক্ষেপে জিডি।

কেন করতে হয় বা কখন করতে হয় এগুলো জানার আগে আমাদের দুইটা জিনিস জানার দরকার। আমলযোগ্য অপরাধ এবং অ-আমলযোগ্য অপরাধ।


আমলযোগ্য অপরাধঃ

আমলযোগ্য অপরাধ বলতে সেই সকল অপরাধকে বুঝায় যে অপরাধ সংঘটনের সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ ছাড়াই ঘটনার তদন্ত শুরু করতে পারবেন এবং আসামীকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারবেন। ফৌজদারী কার্যবিধির ১৫৪ ধারার বিধান মতে আমলযোগ্য ঘটনার প্রত্যেক টি সংবাদ এজাহার হিসাবে গণ্য হবে এবং সরকারের নির্ধারিত ফরম মোতাবেক বইয়ে নথিভুক্ত হবে।


অ-আমলযোগ্য অপরাধঃ

অ-আমলযোগ্য অপরাধ বলতে সে সকল অপরাধকে বুঝায়, যে সকল অপরাধ সংঘটন হবার পর, প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ছাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোন ঘটনার তদন্ত করতে পারেন না এবং বিনা পরোয়ানায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারবেন না। ফৌজদারী কার্যবিধির ১৫৫ ধারায় অ-আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটন হলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার করনীয় সম্পর্কে বলা হয়েছে।

আমলযোগ্য অপরাধ সংজ্ঞার ধারা-৪(১)(চ) এবং আমলঅযোগ্য অপরাধ-৪(১)(ঢ)।

সোজা কথায় আমল অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রেই সাধারন ডায়েরী বা সংক্ষেপে জিডি করতে হয়। এখন প্রশ্ন আসতে পারে জিডি করার কি প্রয়োজন বা কোন পরিস্থিতিতে জিডি করবো। তার আগে একটু জেনে আসি, আমলঅযোগ্য অপরাধ- এর আওতায় কি কি অপরাধ অন্তর্ভুক্ত। কোন থানায় মামলাযোগ্য নয় এমন ঘটনা ঘটলে মানুষ থানায় জিডি করে থাকেন। আবার কাউকে ভয় ভীতি দেখানো হলে বা অন্য কোন কারণে যদি তিনি নিরাপত্তার অভাব বোধ করেন, কিংবা কোন ধরনের অপরাধের আশঙ্কা করেন তাহলেও তিনি জিডি করতে পারেন। জিডি করার পর পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। প্রয়োজনবোধে তদন্ত করা, নিরাপত্তা দেয়া ছাড়াও জিডির বিষয়টি মামলাযোগ্য হলে পুলিশ মামলা করে থাকে। আইনগত সহায়তা পাওয়ার জন্য জিডি অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক সময় আদালতেও জিডিকে সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাধারনত যেসব ক্ষেত্রে মামলা হয়না সেসব ক্ষেত্রে জিডি করা যায়। যেমন, • কারো দ্বারা ভিতিপ্রাপ্ত হয়ে নিরাপত্তার অভাব বোধ করলে। • আপনার বা আপনার সম্পদের অথবা আপনার পরিবারের কোন সদস্য এর বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা থাকলে। • আপনার কোন প্রয়োজনীয় কাগজ যেমন ধরুন পরিচয়পত্র, সার্টিফিকেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, মূল্যবান রশিদ, চেকবই, এটিএম বা ক্রেডিট কার্ড, দলিল, নগদ অর্থ ইত্যাদি হারিয়ে গেলে। • আপনার প্রাণনাশের হুমকি আছে এমন কিছু আশঙ্কা থাকলে। • আপনার কোন আপনজন হারিয়ে গেলে অথবা নিখোঁজ হলে।


কোথায় জিডি করবেন?

জিডি করার ক্ষেত্রে সাধারণত ঘটনাস্থলকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। এর অর্থ হচ্ছে, যে এলাকায় ঘটনা ঘটেছে বা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে সেই এলাকার থানাতেই জিডি করা উচিত। ধরুন আপনার বাড়ি বাগেরহাটে কিন্তু আপনি থাকেন ঢাকার মিরপুরে। আপনার কোন জিনিস যদি মিরপুরে হারিয়ে যায় তাহলে আপনাকে মিরপুরে থানাতেই জিডি করতে হবে; যদিও আপনি সেই সময় বাগেরহাটে অবস্থান করছেন।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথাঃ

  • থানার আশেপাশের ফটোকপির দোকানে আপনি জিডি করার জন্য ফরম্যাট পাবেন। ওখানে তথ্য দিয়ে জমা দিলেই হবে।
  • আপনি ইচ্ছা করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিয়েও জিডি লিখাতে পারেন।
  • জিডি করতে কোন টাকা লাগে না।
  • ঘটনা ঘটার পর যত দ্রুত সম্ভব জিডি করা উচিত।
  • জিডি করার পর হারানো মাল ফেরত পেতে চাইলে বা যদি ডিভাইস ট্র্যাক করতে চান তবে আপনার জিডির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
  • জিডির দুইটি কপি করতে হবে । একটি থানায় এবং অন্যটি আপনার কাছে সংরক্ষণ করতে হবে।
  •  জিডি হওয়ার পর থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা জিডিটি থানার ওসির কাছে পাঠাবেন। জিডিটি যদি আমলযোগ্য আপরাধ সংঘটনের মত বিষয় হয়, তবে থানা কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আমলে নিয়ে অপ রাধটি প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিবে এবং গৃহীত ব্যবস্থা পুনরায় আবেদনকারীকে অবহিত করা হবে।

ইচ্ছা করলে আপনি অনলাইনেও জিডি করতে পারেন। অনলাইনে জিডি করার জন্য http://www.police.gov.bd   এই সাইটে গিয়ে ‘Citizens help request’ –এ ক্লিক করতে হবে।

> আমি কোন আইন বিশারদ না, বা আইন বিষয়ের ছাত্রও না। সম্প্রতি আমার বাসা থেকে আমার মোবাইল, ল্যাপটপ,কিছু টাকা চুরি হয় এবং আমার ব্যাক্তিগত নিরাপত্তার কারনেই থানায় জিডি করি। এখানে সেই অভিজ্ঞতা এবং এই সম্পর্কিত কিছু পড়াশুনা যুক্ত করেছি মাত্র।

কোন ভুল হয়ে থাকলে কমেন্ট করে জানাবেন। আশা করি এই লিখাটি টি থেকে আপনি উপকৃত হয়েছেন।

অসংখ্য ধন্যবাদ।আল্লাহ হাফিজ

“জ্ঞান ভাগাভাগিতে কোনো কার্পণ্য নয়! বাংলা ভাষার কনটেন্ট সমৃদ্ধ করার এই উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে শেয়ার করুন। “