আসসালামুয়ালাইকুম। সবার কি অবস্থা ? ভালো আছেন নিশ্চই। অনেক দিন বাদে লিখছি। আজকে যে বিষয়টির নিয়ে আলোচনা হবে সেটি এখন অনেকেরি আগ্রহের বিষয়, আর সেটি হল স্টোরেজ কম্পোনেন্ট । আরও সহজ আর নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে আমরা কম্পিউটারে গান বা বিভিন্ন ফাইল যে স্টোরেজ বা ড্রাইভে রাখি সেই ড্রাইভ নিয়েই আজকের মুল আলোচনা।

তো মুল কথায় চলে যাই।আমাদের কম্পিউটারে ব্যাবহারের জন্য দুই ধরনের ড্রাইভ পাওয়া যায়। একটা হল HDD বা Hard Disk Drive আর অন্যটি হল SSD বা Solid State Drive. এদের মধ্যে HDD বেশি আভেইলাবেল আর আমরা অনেকেই হয়তো দেখেছি।

তবে এদের মধ্যে কোনটা বেশি ভালো বা কোনটা ব্যাবহার করা উচিত এটা সরাসরি বলা যাচ্ছে না। এটা আসলে ডিপেন্ড করে। যদিও SSD এর দাম আগের থেকে অনেক কমেছে তবে গিগাবাইট প্রতি যদি তুলনা করেন তবে HDD সে তুলনায় অনেক সস্তা । আর যদি আপনার প্রাথমিক বিবেচনা হয় performance এবং দ্রুত bootup সে ক্ষেত্রে আপনাকে SSD ই নিতে হবে।

আমরা এই আর্টিকেলে মোটামুটি ভাবে এদের প্রপার্টি , এদের মধ্যে তফাৎ , দরদাম এসব বিষয়ে জানার চেষ্টা করব। প্রথমেই আসি SSD এর কথায়।

SSD কি?

আমরা এই ড্রাইভ টির নামের দিকে খেয়াল করলে এর প্রপার্টি সম্পর্কে কিছু আইডিয়া পাবো। Solid State Drive । আমি আরও একটু সিমপ্লিফাই করার চেষ্টা করি। আমরা সবাই হয়তো পেনড্রাইভ বা USB memory stick এর সাথে পরিচিত। এই SSD মুলত USB memory stick বা আমাদের পরিচিত পেনড্রাইভ এর একটি বড় এবং উন্নত সংস্করণ। এর মধ্যে কোন ডিস্ক বা মুভিং পার্ট নেই বরং তার বদলে আছে মাইক্রোচিপ যার মধ্যে তথ্যগুলো সংরক্ষিত থাকে। অন্যদিকে HDD তে একটা ঘূর্ণায়মান ডিস্ক থাকে যেখান থেকে একটা মেকানিক্যাল বাহু বা আরম তথ্যগুলো খুজে

বের করে। যদি একটু মজা করে বলি, ধরেন আপনি আপনার ক্যাম্পাসের লাইব্রেরীতে একটি বই খুঁজতে গেলেন আর সেই বই খুঁজতে গিয়ে আপনার লাইব্রেরীতে সবগুলি তাক আপনার খুঁজতে হল। এখন কেউ আপনাকে একটা যাদুর কুপি দিয়ে বলল ঘষা দেওয়া মাত্র কুপির গায়ে লাগানো মনিটরে ভেসে উঠবে কোন সেলফ এ বই আছে। তো এই কাজটাই করে SSD এবং এ জন্নেই SSD অত্যন্ত দ্রুত কাজ করতে পারে HDD এর তুলনায়।   সাধারণত SSD কে NAND-based flash memory বলা হয়। এটা non-volatile বা অনুদ্বায়ী ধরনের মেমোরি। প্রশ্ন করতে পারেন যে এটা তো কর্পূরের বেলায় সম্ভব, কিন্তু মেমোরি ডিস্ক এর বেলায় কিভাবে সম্ভব ? ওয়েট , ব্যাখ্যা দিচ্ছি। সহজে বলতে গেলে এটা এমনি এক ধরনের রিজার্ভেশন সিস্টেম যেখানে আপনি যদি ডিস্ক টার্ন অফ করেন সে ক্ষেত্রেও এটি ভুলে যায় না যে এটির কোথায় কি রেখেছে। যারা NAND GATE- NOR GATE এইশব পরেছেন তাদের জন্য ব্যাপারটা পরিষ্কার। এবং এই যে non-volatile প্রোপার্টি , এটি permanent memory এর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আবশ্যক ।

একটা রিউমার ছিল যে কয়েকবছর পরে নাকি SSD এর ডাটা মুছে যায়। কিন্তু এটা এখন এটা প্রমানিত যে এই গুজব সত্য নয় এবং যদি আপনি সারা দিনরাত এই ডিস্ক ইউজ করতে থাকেন তবুও এই মেমরির অখণ্ডতা বজায় থাকবে ২০০ বছর পর্যন্ত। মানে আপনার জীবন তো যাবেই, আপনার নাতি নাতনিরাও আপনার ক্লিয়ার ছবি দেখতে পারবে।

এবার আসি HDD তে।

HDD কি?

Hard Disk Drives বা HDD আমাদের চারপাশের প্রযুক্তি বিশ্বের এবং প্রযুক্তি পন্নের সাথে সবথেকে বেশি সম্পর্কযুক্ত। HDDs প্রথম 1956 সালে আইবিএম দ্বারা চালু ছিল – হ্যাঁ এটা প্রায় 60 বছর বয়সী প্রযুক্তি। এর তথ্য সংরক্ষণ করতে চুম্বক ক্ষেত্র বা magnetic field ব্যাবহার করা হয়। HDD তে একটি আবর্তিত প্লেট তথ্য সংরক্ষণ করতে এই চুম্বকতা ব্যবহার করে। আর একটা ছোট মেকানিক্যাল আর্ম এখান থেকে ডাটা সংগ্রহ করে। এই ডিস্ক গুলোকে খুব দ্রুত ঘুরানো হয় যাতে দ্রুত ডাটা পাওয়া যায়। সাধারণত ল্যাপটপে 5400 RPM (প্রতি মিনিটে ঘূর্ণন) বা 7200 RPM এ স্পিন চালায়, যদিও কিছু সার্ভার ভিত্তিক প্ল্যাটার 15,000 RPM পর্যন্ত স্পিন করতে সক্ষম। একটি HDD প্রধান সুবিধা হল এটি প্রচুর পরিমাণে তথ্য সংরক্ষণ করতে সক্ষম। এখনকার সময়ে, 1 TeraByte (1,024 গিগাবাইট) স্টোরেজ একটি ল্যাপটপ হার্ড ড্রাইভের জন্য খুবই স্বাভাবিক, এবং অব্যাহত ভাবে এই জায়গা ব্যাবহার করা যায়।

HDD SSDs তুলনায় বেশ সস্তা। তুলনা করতে গেলে খুবই জনপ্রিয় হার্ডডিস্ক ব্রান্ড WD Black(1TB) এর দাম পড়ে প্রায় ৬০ ডলার সেখানে OCZ Trion 100 (960GB) and Samsung 850 EVO (1TB) SSD এর এর দাম আসে $199 থেকে $319 এর মধ্যে, যেটা WD Black এর তুলনায় ৩ থেকে ৫ গুন বেশি। তাই আপনি যদি প্রচুর মেমোরি চান অল্প দামের ভেতর, তাহলে HDD ই আপনার একমাত্র ঠিকানা। সামনে আরও লিখার ইচ্ছা আছে। আজ এ পর্যন্তই। ভুল-ভ্রান্তি থাকলে অবশ্যই গঠনমূলক সমালোচনা ও সংশোধনী আশা করছি। আশা করি এই লিখাটি টি থেকে আপনি উপকৃত হয়েছেন। এরকম আরও তথ্য পেতে “শখের স্কুলের” সাথেই থাকুন। লাইক দিন “শখের স্কুলের” ফেসবুক পেজে। জয়েন করুন“শখের স্কুলের” ফেসবুক গ্রুপে। সাবস্ক্রাইব করুন “শখের স্কুলের” ইউটিউব চ্যানেলটিউনারকে ফলো করুন>> অসংখ্য ধন্যবাদ।আল্লাহ হাফিজ

জ্ঞান ভাগাভাগিতে কোনো কার্পণ্য নয়! বাংলা ভাষার কনটেন্ট সমৃদ্ধ করার এই উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে শেয়ার করুন।